Biliary Tree
← সব কন্ডিশন
বিলিয়ারি ট্রি · পাথর ও বাধা

বিলিয়ারি ট্রি (গলস্টোন ও বাইল ডাক্ট স্টোন)

বিলিয়ারি ট্রি হলো নালীর একটি জালের মতো নেটওয়ার্ক, যা লিভার ও গলব্লাডার থেকে পিত্তরস (বাইল) অন্ত্রে বহন করে নিয়ে যায়। এই নালীর বিভিন্ন জায়গায় পাথর তৈরি হতে পারে বা আটকে যেতে পারে — প্রতিটির নাম ও গুরুত্ব আলাদা।

কোলেলিথিয়াসিস (গলস্টোন)

গলব্লাডারের ভেতরেই তৈরি হওয়া শক্ত পাথরের মতো অংশ, যা অনেক সময় বছরের পর বছর কোনো লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে — যতক্ষণ না এটি গলব্লাডারের মুখে আটকে গিয়ে হঠাৎ তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করে, বিশেষত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর।

কোলিডোকোলিথিয়াসিস (বাইল ডাক্ট স্টোন)

লিভারের বাইরের প্রধান বাইল ডাক্টে (কমন বাইল ডাক্ট) তৈরি হওয়া বা সেখানে চলে আসা পাথর। এটি সাধারণ গলস্টোনের চেয়ে বেশি গুরুতর, কারণ নালী আটকে গেলে পিত্তরস ঠিকমতো বের হতে পারে না, ফলে প্রায়ই জন্ডিস, গাঢ় রঙের প্রস্রাব ও জ্বর দেখা দেয়।

হেপাটিকোলিথিয়াসিস (লিভারের ভেতরের বাইল ডাক্টে পাথর)

লিভারের ভেতরের বাইল ডাক্টে তৈরি হওয়া পাথর। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এর ফলে বারবার সংক্রমণ, লিভার অ্যাবসেস, লিভারের একটি অংশ শুকিয়ে যাওয়া (অ্যাট্রফি), এমনকি দীর্ঘমেয়াদে বাইল ডাক্ট ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

লক্ষণ

—চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর পেটের ডান দিকে উপরের অংশে হঠাৎ ব্যথা
—ব্যথা ডান কাঁধ বা পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে যাওয়া
—বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
—পেট ফাঁপা ও হজমে সমস্যা
—ত্বক বা চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)
—গাঢ় রঙের প্রস্রাব, ফ্যাকাশে মল
—জ্বর সাথে কাঁপুনি (সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে)

ডা. গোলাম মাহমুদ রায়হান-এর চিকিৎসা পদ্ধতি

গলস্টোনের চিকিৎসা হলো ল্যাপারোস্কোপিক (কি-হোল) কোলিসিস্টেক্টমি — গলব্লাডার অপসারণের ন্যূনতম কাটাছেঁড়ার পদ্ধতি। বাইল ডাক্ট ও লিভারের ভেতরের পাথরের জন্য ল্যাপারোস্কোপিক কোলিডোকোলিথোটমি এবং প্রয়োজনে বাইল ডাক্ট পুনর্গঠন করা হয়।

সুস্থ হয়ে ওঠা

গলব্লাডার অপসারণে বেশিরভাগ রোগী ১-২ দিনের মধ্যেই বাড়ি ফিরতে পারেন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক কাজে ফিরে যেতে পারেন। বাইল ডাক্ট স্টোন সার্জারিতে জটিলতার উপর নির্ভর করে সাধারণত ২-৪ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়।

বারবার পেটে ব্যথা বা জন্ডিস দেখা দিচ্ছে? আজই ডা. রায়হানের সাথে কথা বলুন।

যোগাযোগ করুন